
সব সরকারের আমলেই সুবিধাভোগী প্রেসক্লাব, ফেসবুক পোস্টে বিতর্ক,কৃষকদল নেতাকে শোকজ রাজনৈতিক অঙ্গনের নতুন সমালোচনা।
মাগুরা প্রতিনিধি
মাগুরা প্রেসক্লাবকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে করা একটি সমালোচনামূলক পোস্টকে কেন্দ্র করে জেলা জুড়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পোস্টটিতে প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষকদল মাগুরা জেলা শাখার প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. এনামুল হককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে দলটি।
রোববার জেলা কৃষকদলের দপ্তর সম্পাদক মো. চঞ্চল হোসেন চৌধুরী স্বাক্ষরিত নোটিশে তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাগুরা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়া কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। এ বিষয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলেও নোটিশে দাবি করা হয়।
নোটিশ অনুযায়ী, তাকে জেলা কৃষকদলের সভাপতি রুবাইয়াত হোসেন খান ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম হীরার কাছে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
এর আগে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে মো. এনামুল হক দাবি করেন, মাগুরা প্রেসক্লাব দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সরকারের আমলে সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, মন্ত্রী, এমপি কিংবা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছ থেকে নানা ধরনের সুবিধা নেওয়ার সংস্কৃতি প্রেসক্লাবের নেতৃত্বের মধ্যে গড়ে উঠেছে। পাশাপাশি প্রেসক্লাবের মালিকানাধীন বা বরাদ্দপ্রাপ্ত বিভিন্ন দোকান থেকে প্রাপ্ত ভাড়া এবং সেই অর্থের ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সাংবাদিক, রাজনৈতিক কর্মী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ এনামুল হকের বক্তব্যের পক্ষে মত প্রকাশ করলেও, অনেকে তার ভাষা ও উপস্থাপনাকে দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে মন্তব্য করেন।
তবে এনামুল হকের উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে মাগুরা প্রেসক্লাবের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে প্রকাশ করা হবে।
এদিকে কৃষকদলের এক নেতার বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে শোকজ নোটিশ জারির ঘটনাও স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।