মাগুরা সিভিল সার্জন অফিসের বিরুদ্ধে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনে বৈষম্যের অভিযোগ, ক্ষুব্ধ মাগুরার সাংবাদিক সমাজ
মাগুরা প্রতিনিধি:
জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬ উপলক্ষে মাগুরায় অনুষ্ঠিত অবহিতকরণ ও কর্মপরিকল্পনা সভায় গুটিকয়েক সাংবাদিককে আমন্ত্রণ জানানোকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক সমাজে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি জনস্বাস্থ্য কর্মসূচির মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি কার্যক্রমে জেলার অধিকাংশ গণমাধ্যমকর্মীকে উপেক্ষা করে সীমিত সংখ্যক সাংবাদিককে নিয়ে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
জানা গেছে, মাগুরা সিভিল সার্জন কার্যালয় জেলার প্রায় দুই শতাধিক কর্মরত সাংবাদিকের মধ্যে মাত্র ২০ জনকে নিয়ে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের অবহিতকরণ ও কর্মপরিকল্পনা সভা আয়োজন করে। এর মধ্যে মাগুরা প্রেসক্লাবের প্রায় ৫০ সদস্যের মধ্য থেকে ১৬ জন এবং প্রেসক্লাবের বাইরের বিভিন্ন সংগঠন ও গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের মধ্য থেকে মাত্র চারজনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ওই চারজনও প্রেসক্লাবের পছন্দের তালিকাভুক্ত হওয়ায় আমন্ত্রণ পেয়েছেন।
এ ঘটনায় জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীর মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য কর্মসূচির প্রচার-প্রচারণা সর্বস্তরে পৌঁছে দিতে হলে সকল গণমাধ্যমকে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন ছিল। অথচ একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে প্রাধান্য দিয়ে অধিকাংশ সাংবাদিককে বাদ দেওয়ায় তথ্য প্রচারের পরিধি সংকুচিত হয়েছে এবং অনেক গণমাধ্যম বঞ্চিত হয়েছে।
সাংবাদিকদের মতে, শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পরিচালিত এই কর্মসূচিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সাংবাদিকদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে সীমিত পরিসরে প্রচারণা চালানো হলে কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, সরকারি জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কর্মসূচিতে সাংবাদিক নির্বাচন কোন নীতিমালার ভিত্তিতে করা হয়েছে এবং জেলার অন্যান্য গণমাধ্যমকর্মীদের কেন অবহিতকরণ সভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
মাগুরা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি এইচ. এন. কামরুল ইসলাম বলেন, সরকারি সেবামূলক কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে সকল গণমাধ্যমকে সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত। এতে তথ্য দ্রুত জনগণের কাছে পৌঁছাবে এবং কোনো ধরনের বৈষম্য বা ভুল বোঝাবুঝিরও সুযোগ থাকবে না।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সিভিল সার্জন জেলার সকল সাংবাদিককে সম্পৃক্ত করার বিষয়ে ইতিবাচক ছিলেন। তবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে প্রভাব ও আধিপত্য বিস্তারের প্রবণতা থাকায় অনেক সময় সব গণমাধ্যমকর্মীকে সমানভাবে সম্পৃক্ত করার সুযোগ তৈরি হয় না।
সূত্রটির ভাষ্য, স্যার আপনাদের কাজকে মূল্যায়ন করেন এবং ব্যক্তিগতভাবেও আপনাদের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব রাখেন। তবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে প্রভাব ও আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা থাকে। সেই বাস্তবতায় অনেক সময় সকল সাংবাদিককে সমানভাবে সম্পৃক্ত করার সুযোগ তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়ে।
তবে এ অভিযোগের বিষয়ে মাগুরা প্রেসক্লাবের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে মাগুরা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
সাংবাদিক সমাজের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মসূচিতে জেলার সকল গণমাধ্যমকর্মীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে এবং সাংবাদিকদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করে এমন কোনো চর্চা পরিহার করা হবে। কারণ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট তথ্য যত বেশি গণমাধ্যমে প্রচারিত হবে, তত বেশি মানুষ উপকৃত হবে এবং সরকারি কর্মসূচির সফলতাও নিশ্চিত হবে।